বিমান বন্দর পরিকল্পনার জন্য দরকারি তথ্যাবলি

0
37

বিমান বন্দর কোন স্বতন্ত্র যােগাযােগ ব্যবস্থা নয় বরং কোন দেশ বা পুরাে অঞ্চলের যােগাযােগ নেটওয়ার্কের একটি অংশমাত্র। ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অরগানাইজেশন (ICAO)-এর মতে ইমারত স্থাপনা, যন্ত্রপাতি ইত্যাদিসহ স্থল বা জল ভাগের যে সুনির্দিষ্ট এলাকার পুরাে অংশে বা অংশ বিশেষে এয়ার ক্রাফট উড্ডয়ন, অবতরণ এবং চলাচল (Movement) করে, ঐ সুনির্দিষ্ট এলাকাকে এরােড্রাম (Aerodrome) বলে।

যে সকল এরােড্রাম মূলত বাণিজ্যিক সেবাদি প্রদান করে থাকে, ঐগুলােকে এয়ারপাের্ট (Airport) বলা হয়। এগুলাে আন্তর্জাতিক ট্রাফিকের ক্ষেত্রে অন্যান্য স্বাভাবিক সুবিধাদিসহ কাস্টম সুবিধাদিও দিয়ে থাকে। ইমারত, স্থাপনা ইত্যাদি ব্যতীত এয়ারপাের্টের যে অংশ বিশেষভাবে বিমান উড্ডয়ন, ও অবতরণের জন্য ব্যবহৃত হয় ঐ এলাকাকে এয়ারফিল্ড (Airfeld) বলা হয়। সুদূর প্রসারী উন্নয়নকে সামনে রেখেই কোন স্থানে বিমান বন্দর স্থাপন করা হয়। বিমান বন্দর স্থাপনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাকে সামনে রেখে অগ্রসর হতে হয়। আর এ পরিকল্পনার জন্য এয়ার ট্রাফিকের ধরন, আকার, জনগণের চাহিদা, সহযােগীতা, বিমান বন্দরের স্থান ইত্যাদি সংক্রান্ত তথ্যাদির প্রয়ােজন হয়। তাই যুগােপযােগী, জনগণের চাহিদানুরূপ ও ভবিষ্যতে উন্নয়ন উপযােগী বিমান বন্দর পরিকল্পনার জন্য নিম্নোক্ত বিষয়ের উপর তথ্যাদি পূর্বাহ্নেই সংগ্রহ করতে হয়।

১। বিমান বন্দর যে অঞ্চলে করা হবে- নকশায় নিকটবর্তী বিমান বন্দরের সেবা গ্রহণকারী অঞ্চল চিহ্নিত করে পরিকল্পনাধীন বিমান বন্দরের সেবা গ্রহণকারী প্রস্তাবিত অঞ্চল পৃথকভাবে চিহ্নিত করে এতে বাণিজ্যিক এলাকা, আবাসিক এলাকা, শহর, স্থানান্তর অযােগ্য প্রতিবন্ধকতা ইত্যাদি স্পষ্টভাবে দেখাতে হয়।

২। বিমান বন্দরের কার্যাদির ধরন- শুধু বর্তমানের নয়, উন্নয়নের সাথে সাথে ভবিষ্যতে বিমান বন্দর কী ধরনের কার্যক্রম করবে, যাত্রীবাহী বিমান, কার্গো, প্রশিক্ষণ বিমান ইত্যাদির উঠানামার এবং এতদসংক্রান্ত কী কী কার্যাদি সম্পাদন করতে হবে এ বিষয়ের তথ্যাদি এবং বিভিন্ন ধরনের কাজের জন্য কত সংখ্যক লােকের দরকার হবে, গাড়ি পার্কিং ও বাণিজ্যিক এলাকার জন্য কী পরিমাণ স্থানের দরকার হবে ইত্যাদি সংক্রান্ত তথ্যাদি ও সংগ্রহ করতে হবে। এতে কী ধরনের বিমান বন্দর ডিজাইনের প্রয়ােজন হবে তা সহজেই অনুধাবন করা যাবে।

৩। বিমান বন্দর ব্যবহারকারী জনগণের পরিমাণ- বিমান বন্দর জনগণকে বাণিজ্য ও বিনােদনের ক্ষেত্রে ভ্রমণে সেবাদান করে থাকে। এ ক্ষেত্রে কী পরিমাণ লােক নিয়মিত সেবাগ্রহণ করবে, কী পরিমাণ লােক শুধুমাত্র বিশেষ বিশেষ সময়ে সেবা গ্রহণ করবে, ব্যক্তিগত বা কোন প্রতিষ্ঠানের বিমান বন্দর ব্যবহার করবে কিনা ইত্যাদি তথ্যাদি সংগ্রহ করতে হবে।

৪। সম্ভাব্য এয়ার ট্রাফিকের পরিমাণ- বিমান বন্দর কী ধরনের কত সংখ্যক এয়ার ট্রাফিক ব্যবহার করবে, ভিন্ন ভিন্ন। ধরনের এয়ার ট্রাফিকের ফ্লায়িং এর জন্য ভিন্ন ভিন্ন বিমান বন্দরের দরকার হবে কিনা ইত্যাদির সম্ভাব্য তথ্যাদিও সংগ্রহ করতে হবে।

৫। বিমান বন্দরের ক্ষমতা- এটা নিশ্চিত যে, একটি অঞ্চলের জন্য নির্মিত বিমান বন্দর ভিন্ন ভিন্ন ধরনের এয়ার ট্রাফিক ব্যবহার করে এবং এগুলাের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ল্যান্ডিং এলাকা ও অন্যান্য সুযােগ সুবিধার দরকার হয়। তাছাড়া বিপদজনক ক্ষেত্রে জরুরি অবতরনের সুযােগও রাখতে হয়। তাই বিমান বন্দর পরিকল্পনায় এতদসংক্রান্ত তথ্যাদিও পূর্বাহ্নে সংগ্রহ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে প্রয়ােজনে পরিকল্পনায় ছােট উপবিমান বন্দরের ব্যবস্থা রাখতে হতে পারে।

৬। বিমান বন্দরের ধরন ও আকার-আকৃতি- উপরােক্ত বিষয়ভিত্তিক প্রাপ্ত তথ্যাদির ভিত্তিতে বিমান বন্দর নির্মাণের জন্য প্রাপ্ত এলাকার ধরন ও আকৃতির উপর ভিত্তি করে পৃথক পৃথক প্রধান ও সহযােগী বিমান বন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া যেতে পারে। বিমান বন্দরের আকার আকৃতির পরিকল্পনা স্থানীয় অবস্থা, প্রাপ্ত এলাকা, বাতাস প্রবাহের দিক, এলাকার ভূ-সাংস্থানিক অবস্থা, এয়ার ক্রাফটের আকার ও ধরন ইত্যাদি তথ্যের উপর নির্ভর করে ।

৭। নিকটবর্তী অন্যান্য বিমান বন্দর- নিকটবর্তী অন্যান্য বিমান বন্দরের প্রকৃতি, কার্যক্রম, উন্নয়ন, অর্থনৈতিক ও পরিচালনার অবস্থা, নিরাপত্তার জন্য গৃহীত পদক্ষেপ ইত্যাদি সংক্রান্ত তথ্যাবলি গভীর মনোেনিবেশ সহকারে ষ্টাডি করে। প্রস্তাবিত বিমান বন্দরের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

৮। জনগণের অভিমত ও অন্যান্য দিক- বিমান বন্দরের উন্নয়ন পরিকল্পনায় সাধারণ জনগণের মতামত ষ্টাডি, স্থানীয় খবরের কাগজের সম্পাদকীয়, জনগণের সাথে আলাপ-আলােচনায় প্রাপ্ত তথ্যাদির উপর অগ্রাধিকার দিতে হয়। কেননা তারাই এর সুবিধা ভােগ করবে এবং প্রকারান্তরে তারাই এর উন্নয়নের ব্যয়ভার বহন করবে।

৯। বিকট শব্দ (Noise)- বিমান বন্দরের উন্নয়নে উচ্চ ক্ষমতার বাণিজ্যিক ও সামরিক বিমানের বিকট শব্দের বিষয় বিবেচনায় এনে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

১০। ভূমির মূল্য ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি- নূতন বিমান বন্দর স্থাপনের কারণে এর সাথে সম্পর্কিত শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য জমির মূল্য বৃদ্ধি পায় কিন্তু এর চতুর্দিকের আবাসিকগণ বিকট শব্দ ও বিমান দূর্ঘটনার মানসিক ভীতিতে দূরবর্তী নিরাপদ এলাকায় স্থানান্তরিত হয়। এ বিষয়ের উপর দৃষ্টি রেখে বিমান বন্দর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়।

১১। প্রয়ােগযােগ্য আইন- বিমান বন্দর উন্নয়নে পাবলিক ফান্ডের অর্থ খরচ সংক্রান্ত বিধি, সরকারের ভূমি হুকুম দখল করার অধিকার, প্রতিবন্ধকতা অপসারণ, অনুমােদিত অঞ্চলে নূতন কাঠামাে নির্মাণ ইত্যাদি সংক্রান্ত বিধি সম্পর্কিত তথ্যাবলি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।

১২। পর্যটক ট্রাফিক- বর্তমান বা ভবিষ্যতে এলাকায় পর্যটক ট্রাফিকের আগমন সংক্রান্ত তথ্যাদি বিমান বন্দরের প্রয়ােজনীয়তার ক্ষেত্রে মূল্যায়ন করতে হবে।

১৩। বেসরকারি সহযােগীতা- কখনও কখনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অর্থ, ভূমি বা অন্য কোন পরােক্ষ সহায়তা প্রদান করে থাকে। বিমান বন্দর পরিকল্পনায় জনসাধারণের এ ধরনের সহযােগীতা সংক্রান্ত তথ্যাদি বিবেচনায় আনতে হবে।

১৪। ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে উন্নয়নের পরিকল্পনা- ব্যক্তিগত বিমান বন্দর পরিকল্পনার ক্ষেত্রে প্রথমে অতীব প্রয়ােজনীয় দিকগুলি সম্পাদনের পর ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে অন্যান্য দিকের উন্নয়নের সুযোেগ রাখতে হবে ।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

6 − 1 =