বিমান বন্দরের স্থান নির্বাচনে বিবেচ্য বিষয়সমূহ

0
68

যেহেতু অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থার ন্যায় বিজ্ঞান বন্দরের অর্থনৈতিক ও অন্যান্য সাফল্য ব্যবহারকারীর সংখ্যাধিক্যের উপর নির্ভর করে। তাই ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ানাের জন্য বিমান বন্দরের সাথে উত্তম যােগাযােগ ব্যবস্থা ও ভ্রমনে ব্যয়িত সময়ের প্রতি বিশেষ নজর দিয়ে বিমান বন্দরের স্থান নির্বাচন করতে হয়।

প্রতিবন্ধকতা পরিহার করে বিমান উঠানামা করতে হয় বিধায় নিচু সমতল ভূমি বা উপত্যকার তুলনায় উচুভূমিতে বা পাহাড়ের উপরে বিমান বন্দরের স্থান নির্বাচন করা উত্তম। এতে নিষ্কাশন ব্যবস্থা সহজ, কুয়াশার মাত্রা কম এবং তুলনামূলকভাবে সমতালের বায়ু প্রবাহ থাকে। তবে উচ্চতার আধিক্যের জন্য অধিক দৈর্ঘ্যের রানওয়ে নির্মাণ করতে হয়। অপর দিকে উপত্যকা বা নিচু ভূমিতে রানওয়ে নির্মাণ করলে যাত্রীদের বিমান বন্দরে গমনাগমন সহজ হয়, অপেক্ষাকৃত কম দৈর্ঘ্যের রানওয়ে নির্মাণ করতে হয়। তবে নিষ্কাশন ব্যবস্থার প্রতি সতর্ক থাকতে হয়, কুয়াশায় বিঘ্ন ঘটায়। তা ছাড়া বায়ু প্রবাহের সাম্যতা হ্রাস পায় বিধায় বিমান উঠানামায় বিঘ্নতা সৃষ্টি করে। কেননা বিমান বায়ু প্রবাহের দিকের বিপরীত দিক হতে উঠানামা করতে হয়। (উল্লেখ্য যে বায়ুপ্রবাহের দিকের সাথে রানওয়ের কেন্দ্রীয় রেখার কোণ ৩০° এর অধিক অনুমােদিত নয়)

আসলে বিমান বন্দরের জন্য সকল প্রয়ােজনীয় শর্তাদি সামনে রেখে আদর্শ স্থান নির্বাচন করা সহজসাধ্য নয়। কাজেই উদ্দেশ্যাবলি সামনে রেখে নিম্নোক্ত বিষয়াদি বিবেচনা করে তুলনামূলক সর্বাধিক উপযােগী স্থানই বিমান বন্দরের জন্য নির্বাচন করা উচিৎ।

 

প্রধান বিবেচ্য বিষয়অন্তরভূক্ত বিষয়সমূহ
পরিচালনা সম্পর্কিত বিষয়।১।সাধারণ প্রয়ােজন (বিমানের দিক পরিবর্তনের সুবিধা, বিষ্যতে উন্নয়নের সুবিধা ইত্যাদি)।

২।সেবা গ্রহণকারী জনগােষ্ঠী ও এলাকার পরিমাণ।

৩।বিমান বন্দরের ক্ষমতা ও সম্ভাব্য এয়ার ট্রাফিকের পরিমাণ।

৪।আড়াআড়ি বায়ু প্রবাহের জন্য যথেষ্ট সংখ্যক রানওয়ে নির্মানের সুযোেগ।

৫।অন্যান্য বিমান বন্দরের সাথে সম্পর্ক।

৬।বিমান পথের নৈকট্য (সংঘর্ষ পরিহারের জন্য)।

আবহাওয়া সম্পর্কিত বিষয়।১।বায়ু প্রবাহের দিক, কম্পন, গতিবেগ।

২।কুয়াশা ও দৃষ্টিগােচরতা।

৩। আবহাওয়া সংক্রান্ত বিষয়।

ভৌত বিষয়াদি১।এপ্রােচ ও বিমানবন্দর এলাকায় প্রতিবন্ধকতা ।

২।সহজ যাতায়াত ব্যবস্থা।

৩।ভূ-সংস্থানিক অবস্থা, মাটির অবস্থা ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা ।

৪।বিমানবন্দরের আকার আকৃতি ও বিবিধ ভৌত সুবিধা।

অর্থনৈতিক বিষয়াদি১। নির্মাণ সামগ্রীর সহজ প্রাপ্যতা ও অন্যান্য সাধারণ বিষয়।

২। উন্নয়ন ব্যয়।

৩।নির্মাণ, পরিচালন, রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য ব্যয়।

৪।রাজস্ব আয়।

বিবিধ১।হুকুম দখলকৃত সম্পত্তির মালিকদের মনােভাব।

২। বিমান বন্দরের নিরাপত্তা।

 

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

2 × one =