কাস্ট-ইন-সিটু পাইল (Cast in Situ Pile)

0
577

কাস্ট-ইন-সিটু বা স্বস্থানে ঢালাইকৃত কংক্রিট পাইলঃ

পাইল বসানাের স্থানে মাটির মধ্যে নির্দিষ্ট গভীরতা পর্যন্ত গর্ত খনন করে যে ঢালাই করা হয়, তাকে কাস্ট-ইন-সিটু পাইল বলে। এ পদ্ধতিতে পাইল বসানাের স্থানে পাইল তৈরির কাজ সম্পূর্ণ করতে হয়। পাইল বসানাের সময় কোন প্রকার পীড়ন সৃষ্টি হয় না। তাই এ প্রকার পাইলে সাধারণত রড ব্যবহার করা হয় না। আবার যেখানে সাব-সয়েলের পানিতে পাইল নিমজ্জিত থাকে সেখানেও রডের প্রয়ােজন হয় না। যেখানে পাইল কলাম হিসাবে কাজ করবে এবং পার্শ্বস্থ চাপ প্রতিরােধ করবে, সেখানে রড ব্যবহার করা একান্ত প্রয়ােজন।

কাস্ট-ইন-সিটু পাইলের সুবিধাসমূহঃ

১। এ পাইল প্রকৃত দৈর্ঘ্য অনুযায়ী নির্মাণ করা হয়, তাই সময়, অর্থ এবং নির্মাণ সামগ্রীর অপচয় হয় না।

২। বসানাের সময় আঘাতের প্রয়ােজন হয় না। ফলে নির্মাণ কাজ নিখুঁত হয়।

৩। পরিবহন খরচ শূন্য।

৪। কিউরিং এর জন্য কোন সময়ের অপচয় হয় না।

৫। পাইলের প্রস্থচ্ছেদ বৃদ্ধি করে অধিক লােড বহনের উপযােগী পাইল তৈরি করা যায়। যেমন- পেডেস্টাল পাইল।

৬। পাইলের গভীরতা এবং মাটির স্তরের ভারবহন ক্ষমতা জানা থাকে বলে সঠিকভাবে পাইল ডিজাইন করা যায়।

কাস্ট-ইন-সিটু পাইলের অসুবিধাসমূহঃ

১। পানির নিচে ব্যবহার করা যায় না।

২। যদি রড ব্যবহার করা হয়, তবে রডকে যথাস্থানে স্থাপন করা কষ্টসাধ্য।

৩। কেজিং বিহীন পাইল নির্মাণ কালে পার্শ্ববর্তী শুকনা মাটি সদ্য প্রস্তুত কংক্রিট হতে পানি শােষণ করে লয় বলে

পাইল দুর্বল হয়ে যায়।

৪। যেহেতু কংক্রিটকে উঁচু স্থান হতে ঢালা হয়, সেহেতু কাজের মান সন্তোষজনক হয় না।

৫। কংক্রিটের র্যামিং কার্য তদারক করা সম্ভব নয় বিধায় কংক্রিটের মধ্যে ভয়েড থাকার সম্ভাবনা থাকে। যা নির্মাণ কাজকে খুঁত যুক্ত করে।

৬। সাব-সয়েলের পানি এবং মাটির মরিচা পড়ার উপাদান দ্বারা সদ্য প্রস্তুত কংক্রিট আক্রান্ত হতে পারে।

৭। যে সমস্ত কাস্ট-ইন-সিটু পাইলে রড ব্যবহার করা হয় না, সে সমস্ত পাইল মাটির পার্শ্ব সরণে ভাঙিয়া যেতে

পারে। তাছাড়া পার্শ্ববর্তী পাইল বসানাের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

প্রি-কাস্ট পাইল কি এবং এর সুবিধা ও অসুবিধা সমূহ ?

ধন্যবাদ এই পোস্টটি পড়ার জন্য। এই পোস্ট টি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে তাহলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

10 − two =