ভিত্তির ব্যর্থতার কারণসমূহ (Causes of failures of foundations)

0
36

ভিত্তির ব্যর্থতার কারণসমূহ (Causes of failures of foundations)

নিম্নলিখিত কারণে ভিত্তি ব্যর্থ হতে পারেঃ

১।সাব-সয়েলের অসম বসন (Unequal settlement of sub-soil)

২।ম্যাশনরি অসম বসন (Unequal settlement of masonry)

৩।সাব-সয়েলের আর্দ্রতার সরণ (Sub-soil moisture movement)

৪।দেওয়ালের উপর পার্শ্ব চাপ (Lateral pressure on the walls)

৫।সাব-সয়েলের (ভিত্তির নিম্নস্থ মাটি) পার্শ্ব সরণ (Lateral movement of sub-soil)

৬।গাছপালা এবং গুল্মের মাধ্যমে সাব-সয়েলের আর্দ্রতা দূরীভূত (Weathering of sub-soil due to trees and shrubs)

৭।আবহাওয়ার ক্রিয়া (Atmospheric action)

ভিত্তির ব্যর্থতার প্রতিকারের উপায়সমূহ (Remedical measures of foundation failures)

১।সাব-সয়েলের অসম বসনঃ

সাব-সয়েল বা ভিত্তির নিম্নস্থ মাটি অসমভাবে বসে গেলে ভিত্তিতে ফাটলের সৃষ্টি হয়। যা পরবর্তীতে কাঠামাের ব্যর্থতার কারণ হয়। তাই ভিত্তির মাটির উপর চাপের পরিমাণ কোন অবস্থাতেই মাটির ভারবাহী ক্ষমতার অতিরিক্ত হবে না। নির্মাণ কাজে এমন পদার্থ ব্যবহার করা উচিত যেন ভিত্তি সর্বাবস্থায় স্থায়ী থাকে।

নিম্নলিখিত কারণে সাব-সয়েল অসমভাবে বসে যায়ঃ

(ক) ভিত্তির সর্বত্র সাব সয়েলের প্রকৃতি একইরূপ না হওয়া।

(খ) মাটির স্তর কর্তৃক অসমভাবে লােড বিস্তৃতকরণ।

(গ) ভিন্ন কেন্দ্রীক লােড প্রয়ােগ।

অসম বসনের প্রতিকারঃ

(ক) ভিত্তিকে কঠিন স্তরে স্থাপন করা ।

(খ) ফুটিং এর ডিজাইন এমন হবে যেন ফাটল প্রতিরােধী হয়।

(গ) মাটির উপর চাপকে সীমাবদ্ধ করে।

(ঘ) ভিন্নকেন্দ্রিক লােড এড়িয়ে।

২। ম্যাসনরির অসম বসনঃ

গাঁথুনির মসলা শক্তি অর্জন করার পূর্বেই অতিরিক্ত লােভ প্রয়ােগ করলে ব্যবহৃত মসলা সংকুচিত হয়। যার ফলে ম্যাসনরির অসমবসন সৃষ্টি করে এবং কাঠামােতে ফাটল দেখা দেয়। এর প্রতিরােধকল্পে নিম্নলিখিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

(ক) যথাযথ শক্তি সম্পন্ন মসলা ব্যবহার করতে হবে।

(খ) মসলার জয়েন্ট পাতলা (thin) করতে হবে।

(গ) সিমেন্ট মসলা দ্বারা গাঁথুনির কাজ করা হলে প্রতিদিন ১.৫ মিটার উচ্চতা এবং চুন মসলা দ্বারা ১ মিটারের বেশী উচ্চতায় গাথুনির কাজ করা উচিত নয়।

ঘ) কাঠামাের গাঁথুনির কাজ সর্বত্র একই লেভেলে সম্পন্ন করতে হবে।

(ঙ) মসলার জয়েন্ট পর্যাপ্ত শক্তি সম্পন্ন হওয়ার জন্য কমপক্ষে ১০ দিন কিউরিং করা প্রয়ােজন।

৩।সাব-সয়েলের আর্দ্রতার সরণঃ

সাৰ-সয়েলের পানির লেভেল উঠানামা করলে সংশক্তিপূর্ণ মাটি (Cohesive soil) এর সংকোচন ও প্রসারণ ঘটে। কাদা এবং ব্লক কটন মাটির ক্ষেত্রে এরূপ ঘটে থাকে। আবহাওয়া পরিবর্তনে এ জাতীয় মাটির আয়তন পরিবর্তন হয়ে থাকে। এ মাটি ভিজলে অতিমাত্রায় প্রসারণ এবং শুষ্ক হলে অতিমাত্রায় সংকোচন ঘটে। সুতরাং মাটির এ সংকোচন ও প্রসারণের ফলে ভিত্তির নিচের মাটির সরণ ঘটে। যার ফলে অসম বসনের সৃষ্টি হয় এবং কাঠামােতে ফাটল ধরে। এ সরণ প্রতিরােধের জন্য নিম্নলিখিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

(ক) মাটির উপর লােড ৫.৫ টন/বর্গমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। যদি পানি প্রবেশের সম্ভাবনা থাকে, তবে এ ৪.৯ টন / বর্গমিটারের মধ্যে লােড সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

(খ) ফাটলের সম্ভাবনা কমানাের জন্য ভিত্তিকে কমপক্ষে ৫০ সেমি মাটির গভীরে প্রবেশ করাতে হবে। মাটির সাথে কাঠামাের ভিত্তি স্পর্শ না করিয়ে প্রতিরােধ করা যায়। এ কাজ করতে হলে পরিখা খনন করে বালি, পাথর ইত্যাদি কোণাকার পদার্থ দ্বারা একটি স্তর তৈরি করতে হয়।

৪।দেওয়ালের উপর পার্শ্বচাপঃ

ঢালু, ছাদের পার্শ্বচাপ, আর্চ প্রেসার, ভয়ংকর ঝড়, বৃহদাকার ক্যান্টিলিভার প্রজেকশনের প্রভাব ইত্যাদির কারণে পার্শ্ব দেওয়ালসমূহ উল্টে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। উপরােক্ত কারণে কাঠামাের সমস্ত লােড ভিত্তির একপ্রান্তে কেন্দ্রীভূত হয়। সুতরাং এ সমস্ত ক্ষেত্রে দেওয়ালের ভিত্তির আকার এবং অনুপাত এমন হওয়া উচিত যাতে স্থায়িত্বের প্রয়ােজনীয় শর্তাবলি পূর্ণ হয়।

৫।সাব-সয়েলের পার্শ্ব সরণঃ

অত্যাধিক ঢালু জমিতে বা নদীর পার্শ্বে অথবা গভীর খনন কার্যের পার্শ্বে কোন কাঠামাের অবস্থান হলে ভিত্তির নিম্নস্থ নরম মাটি অথবা আলগা মাটি সরে গিয়ে ব্যর্থ হতে পারে। এ সমস্ত ক্ষেত্রে স্টীল অথবা কাঠের শীট পাইল বসিয়ে মাটিকে ধরে রেখে বিপদমুক্ত রাখা যায়।

৬।গাছপালা ও গুল্মের মাধ্যমে আর্দ্রতা দূরীভূতঃ

অনেক সময় দেওয়ালের নিকটে ছােট ছােট গাছ বা গুল্ম বড় হতে থাকে। এ সকল গাছপালার শিকড় ভিত্তির মাটির পানি শােষণ করার ফলে ভিত্তির মাটির অসম সংকোচন ঘটে। ফলে ভত্তিতে ফাটলের সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তীতে কাঠামাের ব্যর্থতার কারণ হয়। এ ক্ষয়ক্ষতি এড়ানাের জন্য ভিত্তি হতে নিরাপদ দূরত্বে গাছপালা রােপণ করতে হবে। একটি পূর্ণ বয়স্ক বৃক্ষের উচ্চতার সমান দূরত্বে ভিত্তি থাকা উচিত। আর সারিবদ্ধ বৃক্ষের ক্ষেত্রে উচ্চতার অর্ধেক দূরত্বে ভিত্তি থাকা উচিত। পূর্ণ বয়স্ক বৃক্ষের ক্ষেত্রে নিরাপদ দূরত্ব ১৫ মিটার এবং বৃহদাকার বৃক্ষের ক্ষেত্রে আরও বেশি হওয়া উচিত। এছাড়াও ভিত্তিকে মাটির ফাটল ক্রিয়া হতে মুক্ত রাখার জন্য কমপক্ষে ৯০ সেন্টিমিটার গভীরে স্থাপন করা উচিত।

৭।আবহাওয়ার ক্রিয়াঃ

বৃষ্টির পানির কিছু অংশ মাটির অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। পানি প্রবেশের সময় ভূপৃষ্ঠের লবণাক্ততা নিয়ে প্রবেশ করে, যা ভিত্তির পদার্থের ক্ষতির কারণ হয়ে থাকে। আবার ভিত্তি যদি মাটির গভীরে না থাকে তবে বর্ষার পানি দ্বারা মাটি ধুয়ে ভিত্তি আলাদা হয়ে পড়তে পারে। আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে সাব-সয়েলের পানিরও পরিবর্তন ঘটে। যার ফলে মাটির সংকোচন প্রসারণ ঘটে এবং ভিত্তিতে ফাটল ধরে। এর প্রভাব হতে ভিত্তিকে রক্ষা করতে হলে নিম্নলিখিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

(ক) ভিত্তির গভীরতা এমন হওয়া উচিত যেন আবহাওয়ার ক্রিয়া বিফল হতে পারে।

(খ) সাব-সয়েলের পানি নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকতে হবে, যেন সাব-সয়েলের পানি বৃদ্ধি পাইয়া ভিত্তির ক্ষতির কারণ হতে না পারে।

(গ) যেখানে মাটিতে অতিরিক্ত সালফেট বা অন্যান্য ক্ষতিকারক পদার্থ বিদ্যমান সেখানে ভিত্তিতে প্রয়ােজন বােধে ১ঃ২ঃ৪ অনুপাতের সিমেন্ট কংক্রিট অথবা পাথরের গাঁথনি করা উচিত।

(ঘ) ভিত্তির খাদ ভাল মাটি দ্বারা পূর্ণ এবং দুর্মুজ করে দিতে হবে।

(ঙ) মাটির সমতলে দেওয়ালের পার্শ্বের মাটি একটু উঁচু করে দিতে হবে, যাতে বর্ষার পানি সহজে দূরে গড়িয়ে যেতে পারে।

(চ) বহিঃস্থ দেওয়ালের পার্শ্বে ৬০ সেমি হতে ৯০ সেমি প্রস্থ বিশিষ্ট প্লিন্থ প্রটেকশন এর অভেদ্য স্তর স্থাপন করতে হবে।

ক্যাভিটি ওয়ালের নির্মাণ পদ্ধতি (Construction of cavity wall)

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

seventeen − 3 =