টিম্বার পাইল

0
213

টিম্বার পাইলঃ

ভিজা এবং সংকোচনশীল মাটির উপর হালকা কাঠামাে নির্মাণ করতে হলে টিম্বার পাইল ব্যবহার করা সুবিধাজনক। এতে খরচও কম হয়। মাটি এবং পাইল পৃষ্ঠের মধ্যকার ঘর্ষণ বল দ্বারা লোড ছড়িয়ে দেওয়া হয়। টিম্বার, পাইল সাধারণত ঘর্ষণ পাইল হিসাবে বেশি ব্যবহৃত হয়। শাল, টিক, দেওদারু, বাবুল, খয়ের (Khair) ইত্যাদি গাছ হতে কাঠের পাইল তৈরি করা হয়। খয়ের কাঠের পাইল লবণাক্ততায় নষ্ট হয় না বলে উপকূলীয় নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত হয়। কাঠের পাইল বর্গাকার অথবা গােলাকার হয়ে থাকে। চিত্রঃ ১০.৫ এ টিম্বার পাইল দেখান হল। গােলাকার কাঠের পাইলের ব্যাস ৩০ সেমি হতে ৫০ সেমি এবং বর্গাকার পাইলের আকার ৩০ সেমি হতে ৫০ সেমি হয়ে থাকে। পাইলের নিচের অংশ সরু, যার আকার ১৫ সেমি হতে ১৮ সেমি এর মধ্যে থাকে। কাঠের পাইলের দৈর্ঘ্য সাধারণত পাইলের উপরের মাপের ২০ গুণের বেশি হওয়া উচিত নয়। এর নিচের প্রান্তে সি. আই. (Cast iron) সু ব্যবহার করা হয়।

টিম্বার পাইলের সুবিধাঃ

১। এ পাইল সস্তা এবং খরচ কম হয়।

২। সহজে জোড়া দিয়ে অধিক লম্বা করা যায়।

৩। দ্রুত বসানাে যায়। ফলে সময়ের অপচয় কম হয়।

৪। এ পাইল বসানাের জন্য ভারী যন্ত্রপাতি এবং দক্ষ কারিগরি তত্ত্বাবধানের প্রয়ােজন হয় না।

৫। কাঠের স্থিতিস্থাপক গুণাবলি বিদ্যমান থাকার ফলে যে সমস্ত এলাকায় কিছুটা পার্শ্বচাপের সম্ভাবনা থাকে, সেখানেও এটা ব্যবহার করা যায় ।

৬। এ পাইলকে সহজেই কেটে ছােট করা যায় এবং সহজেই নাড়াচাড়া করা যায়।

টিম্বার পাইলের অসুবিধাসমূহঃ

১। এ পাইল পােকামাকড় ও লবণ পানি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

২। ভরাট মাটির ক্ষেত্রে অক্ষত অবস্থায় এ পাইল বসান সম্ভব নয়।

৩। পাইলের স্থায়িত্বতার জন্য পানির স্থায়ী লেভেলের নিচে পাইলকে কেটে দিতে হয়। ফলে যেখানে সাব-সয়েলের

পানির লেভেল অনেক গভীরে থাকে সেখানে পাইল ক্যাপ স্থাপন করার জন্য খনন কার্যে বেশি খরচ হয়।

৪। এ পাইলের দৈর্ঘ্য সীমাবদ্ধ থাকায় যেখানে লম্বা পাইলের দরকার সেখানে ব্যবহার করা যায় না। কারণ পাইলের জোড়া স্থান খুব দুর্বল হয়।

৫। এ পাইলের ভারবহন ক্ষমতা কম।

৬। মাটির শক্ত স্তরে বসানাে খুব কষ্টকর।

বিভিন্ন প্রকার পাইলের বর্ণনা

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

9 + 10 =