বিভিন্ন প্রকার কংক্রিটের উপাদানসমূহ

0
149

বিভিন্ন প্রকার কংক্রিটের উপাদানসমূহ (Ingredients of different kinds of concrete)

লাইম কংক্রিট (Lime concrete) :

চুন, সুরকি, খােয়া এবং পানি মিশ্রিত করে এ কংক্রিট প্রস্তুত করা হয়। চুনের রাসায়নিক নাম হল ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (caco3) । পাথরে চুন পুড়িয়ে আমরা যে চুন পাই তা কুইক লাইম বা ক্যালসিয়াম অক্সাইড বা আনপ্লেকেড লাইম। এ চুন পানির সংস্পর্শে আসলে বা বাতাস হতে জলীয় বাষ্প টেনে নিয়ে স্নেইকড লাইম বা ফোটানাে চুন বা ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড-এ পরিণত হয়। এ চুন ব্যবহার করে লাইম কংক্রিট প্রস্তুত করা হয়। বর্তমানে লাইম কংক্রিটের ব্যবহার খুবই সীমিত। কেবলমাত্র জলছাদ করতে লাইম কংক্রিট ব্যবহার করা হয়। তবে বুনিয়াদ, গাঁথুনীর নিচে, যেখানে কাঠামাের লােড খুবই কম, সেখানে লাইম কংক্রিট ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

সিমেন্ট কংক্রিট (Cement concrete)-

পূর্ব পরিকল্পিত নিয়মে সিমেন্ট, বালি, ইটের খােয়া বা পাথর খােয়া দিয়ে পানি সহ নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশিয়ে এ কংক্রিট প্রস্তুত করা হয়। সিমেন্টকে জমাট বাঁধাইকারী উপাদান হিসাবে ব্যবহার করা হয় বলে একে সিমেন্ট কংক্রিট বলে। এ বিভিন্ন নির্মাণ উপাদানগুলাে যখন মিশ্রিত করা হয়, তখন এটা প্লাস্টিক বা নমনীয় থাকে। এ অবস্থায় যে কোন আকারে ঢালাই করা যায়। তারপর ধীরে ধীরে শক্ত ও মজবুত হয়।

সিমেন্ট ও পানিতে যে রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হয়, তার জন্য উপযােগী তাপমাত্রার বিশেষ প্রয়ােজন।কংক্রিট তিনটি ধাপে শক্ত হয়।যেমন- প্রথম জমাট বাধা সময় ৩০ থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যে হয়ে থাকে।এ সময় কংক্রিটের নমনীয়তা দুরীভূত হয় এবং প্রবাহমান বিলুপ্ত হয়। দ্বিতীয় স্থিতিভবন প্রথম স্থিতিভবন থেকে প্রায় ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত হয়ে থাকে। মিশ্রণের পর হতে এপর্যায়ে কংক্রিট বেশ শক্ত হয়। যদিও উপরিভাগ তখনও কিছুটা নরম থাকে। তৃতীয় স্থিতিভবন- এ পর্যায়ে কংক্রিট দ্রুত শক্ত ও মজবুত হতে থাকে এবং কংক্রিট শক্তি সঞ্চয় করতে থাকে। এ প্রক্রিয়া প্রায় এক মাস পর্যন্ত চলতে থাকে। এ পর্যায়ে কংক্রিটের বৃহত্তম অংশে শক্তিবৃদ্ধি ও দৃঢ়ীভূত সম্পন্ন হয়।

আর. সি. সি (Reinforced Cement Concrete)-

সাধারণ কংক্রিট টানে খুব ভঙ্গুর এবং দুর্বল। যদিও চাপ সহ্য ক্ষমতা অনেক বেশি। এটা শিয়ারেও তুলনামূলকভাবে বেশ দুর্বল। কংক্রিট যদি কাঠামাের এমন স্থানে ব্যবহৃত হয়, যেখানে তাকে টান ও শিয়ার বল সহ্য করতে হয় তা হলে এর মধ্যে লােহার রড ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের কংক্রিটকে জোরদার কংক্রিট (Reinforced Cement Concrete) বা সংক্ষেপে আর, সি.সি. (R.C.C.) বলে।

প্রি-স্ট্রেসড কংক্রিট (Pre-stressed concrete)-

যে কংক্রিটে এমন পরিমাণ ও বিস্তৃতির অভ্যন্তরীণ পীড়ন প্রবর্তনা করা হয় যে, উহা বহিঃস্থ ভার হতে উদ্ভূত পীড়ন ঈপ্সিত মাত্রায় প্রশমিত করে, তাকে প্রি-স্ট্রেসড কংক্রিট বলে।

আর.সি.সি কাজে যেসব বিষয় বিবেচনা করা হয়

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

8 + twenty =